মোহাম্মদ আদনান মামুন:

গাজীপুরের শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধা এবং সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সার্ভিস সোসাইটি লিমিটেড এর বিরুদ্ধে। বরমী বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম এবং স্বর্গীয় গোপীনাথ নন্দীর পাঁচ যুগের বেশি সময় ধরে দখলে থাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট দখলের অভিযোগ উঠে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্বর্গীয় গোপীনাথ নন্দী শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের স্বর্গীয় গোপাল চন্দ্র নন্দীর ছেলে।

জানা যায়, ১৯৫৯ সাল থেকে স্বর্গীয় গোপীনাথ নন্দী ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজারে ১১ শতাংশ জমির মধ্যে দোকানপাট ও বসতবাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু কিছু অসৎ লোক হঠাৎ করে তার বসতবাড়ি আর দোকান তালাবদ্ধ এবং পরবর্তীতে ভাঙচুর করে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজনদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে বাসার মালামাল ভাঙচুর করে।

স্বর্গীয় গোপীনাথ নন্দীর মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা মনি নন্দী জানান, ১৯৫৯ সাল থেকে আমার বাবার দখলে থাকা সম্পত্তি হঠাৎ করে শওকত মৃধা, ফজলুল হক মিলিটারি, খোকা, রতন ফকির, জাহাঙ্গীরসহ আরও কিছু লোক এসে আমার চাচা বাবুল নন্দীর কাছ থেকে ঘরের চাবি নিয়ে যায় ঘরের ভেতরে মিটিং করবে বলে। পরে তারা ঘরে থাকা পুরাতন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ও মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দরজায় নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, এই জমি উদ্ধারের জন্য সকল মহলের সহযোগিতা আশা করছি। প্রশাসন যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির শেষ চিহ্নটুকু আমাকে ফিরিয়ে দেয়।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের দোকানেও একই ধরনের আরেকটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয় একটি মহল।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম জানান, পাঁচ যুগের বেশি সময় ধরে আমার বাবার ভোগ দখলে থাকা দোকানের সামনে রাতের আঁধারে একটি সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। তাতে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রীতিমতো অবাক হয়েছি। আর আপনারা লক্ষ করবেন গত এক সপ্তাহ আগে তাদের সমিতির সাইনবোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল (২৩)। আর এক সপ্তাহ পর তাদের সমিতির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার হয়ে গেলো (৫)। যা দুটি রেজিস্ট্রেশন একটিরও কোনো ভিত্তি নেই। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বসতবাড়ি দোকানপাট দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরও বলেন এজন্যই কি আমরা এদেশ স্বাধীন করেছিলাম।

বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সার্ভিস সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, আমাদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার (২৩) এর সমবায় সমিতির জমি ১১ শতাংশ এটি দীর্ঘ সময় যাবত বরমী ইউনিয়নের স্বর্গীয় গোপীনাথ নন্দী ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের বাবার কাছে সমিতির পক্ষ থেকে ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে তারা এই জমিকে নিজের জমি বলে বিভিন্ন মহলে জাহির করছে। যার কারণে আমরা সমিতির জমিতে সাইনবোর্ড দিয়েছি।

সমিতির সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট সাহাবউদ্দীন জানান, এই সম্পত্তির মালিক বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এর সদস্য সংখ্যা ১১৫। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজও আমাদের সমিতির সদস্য। সমিতির কোনো কাগজ আছে নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন সব কাগজই আছে। তারপর কাগজ দেখতে চাইলে তৎক্ষনাৎ কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

শ্রীপুর উপজেলা সমবায় অফিসার উৎপল কুমার মন্ডল জানান, আমি এখানে ১২ জানুয়ারি যোগদান করেছি। আমি সমিতির বিষয়ে শুনেছি বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এরকম হয়ে থাকে, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *